কনটেন্টটি শেষ হাল-নাগাদ করা হয়েছে: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬ এ ১২:৩৩ PM

জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই শাহজালালের থার্ড টার্মিনালের চুক্তি করতে চায় সরকার : বিমানমন্ত্রী

কন্টেন্ট: খবর প্রকাশের তারিখ: ০৪-০৪-২০২৬ আর্কাইভ তারিখ: ২৪-০৪-২০২৬

জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে আলোচনার মাধ্যমে জাপানি কনসোর্টিয়ামকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা শুক্রবার (৩ এপ্রিল) জাপানি পক্ষের সাথে দ্বিতীয় দফার আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত আলোচনা এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ও জাপান এই উচ্চপর্যায়ের দ্বিতীয় দফার বৈঠকটি করেছে, যা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই চুক্তিটি চূড়ান্ত করার পথে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। জাপানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে টার্মিনাল পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সংশোধিত প্রস্তাবের ওপর বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে এমবার্কেশন ফি (উড্ডয়ন ফি), অগ্রিম অর্থ প্রদান (আপফ্রন্ট পেমেন্ট) এবং রাজস্ব ভাগাভাগির ব্যবস্থার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জাপানি পক্ষকে বাংলাদেশের প্রস্তাবগুলো পুনর্বিবেচনা করতে এবং একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দিতে অনুরোধ করেন। তিনি জাপানের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করার বিষয়ে সরকারের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন এবং বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকও এই আলোচনায় অংশ নেন। জাপানি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন জাপানের ভূমি, অবকাঠামো, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সহকারী ভাইস মিনিস্টার নাকায়ামা রিয়েকো। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সমাধান করতে এবং একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য চুক্তিতে পৌঁছার চেষ্টা করায় বৈঠকে মূলত পরিচালনা এবং আর্থিক দিকগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় সম্পন্ন হওয়া টার্মিনালটি চালু করতে উচ্চপর্যায়ের ধারাবাহিক তৎপরতার অংশ হিসেবে গত ১৩ মার্চ অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর সর্বশেষ আলোচনাটি অনুষ্ঠিত হলো। বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ঐকমত্য হলে চুক্তি সই করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে। টার্মিনালটি এই বছরের শেষ দিকে অথবা ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে উদ্বোধন হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) বড় অঙ্কের অর্থায়নে নির্মিত এই টার্মিনালটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। প্রায় ৫ লাখ ৪২ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এই টার্মিনালটি বছরে অতিরিক্ত ১২ থেকে ১৬ মিলিয়ন যাত্রী এবং প্রায় ৯ লাখ টন কার্গো পরিবহনের সক্ষমতা রাখে।

facebook sharing button

এক্সেসিবিলিটি

স্ক্রিন রিডার ডাউনলোড করুন